উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনাকরাে।

উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনাকরাে।
অথবা, উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর তুলনামূলক। আলােচনার মাধ্যমে তাদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করাে। 
 
 
Class 10 | Geography | 5 Marks

উত্তর:-

উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নদনদীর প্রধান বৈশিষ্ট্যের তুলনা :

সাদৃশ্য: উত্তর ভারতের নদনদীর সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের নদনদীর সাদৃশ্যগুলি হল— 

1. মােহানাবঙ্গোপসাগর : উত্তর ভারতের অধিকাংশ নদী (যেমন—গঙ্গা, ব্রম্মপুত্র প্রভৃতি) যেমন বঙ্গোপসাগরে পড়েছে, তেমনই দক্ষিণ ভারতেরও অধিকাংশ নদী (যেমন— কৃষ্ণা, কাবেরী, গােদাবরী প্রভৃতি)-ও বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। 

2. মােহানা-আরব সাগর : উত্তর ভারতের কিছু নদী (যেমন— সিন্ধু) আরব সাগরে মিশেছে তেমনই দক্ষিণ ভারতেরও কিছু সংখ্যক নদী (যেমন—নর্মদা, তাপ্তী)-ও আরব সাগরে মিশেছে। 

3. বদ্বীপ : উত্তর ভারতের নদনদী (যেমন—গঙ্গা, ব্রম্মপুত্র)-গুলির যেমন বদ্বীপ রয়েছে, তেমনই দক্ষিণ ভারতের নদীগুলির (যেমন—কৃয়া, কাবেরী, গােদাবরী)-ও বদ্বীপ রয়েছে। 

বৈসাদৃশ্য : উত্তর ভারতের নদনদীর সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের নদনদীর বৈসাদৃশ্যগুলি হল —

বিষয়উত্তর ভারতের নদনদীদক্ষিণ ভারতের নদনদী 
নিত্যবহতাসুউচ্চ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হওয়ায় নদীগুলি বৃষ্টির জল ও বরফগলা জলে পুষ্ট, তাই নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে অর্থাৎ নদীগুলি নিত্যবহ।বেশিরভাগই বৃষ্টির জলে পুষ্ট এজন্য শুষ্ক ঋতুতেনদীতে জলের পরিমাণ যথেষ্ট হ্রাস পায়। তাই নদীগুলি নিত্যবহ নয়।
গতিপথের স্পষ্টতানদীগুলির উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতির অধিকাংশই সুস্পষ্ট। গতিপথের বিভিন্ন পর্যায় অস্পষ্ট এবং তার মধ্যে সমতাও নেই।
নদীর গতিপথের প্রকৃতিনদীগুলির অধিকাংশই নবীন এবং সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রায়ই গতিপথ পরিবর্তন করে। এজন্য নদীগুলির গতিপথে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়।নদীগুলি বয়সে প্রাচীন এবং গতিপথ পরিবর্তন করে না। এজন্য নদীগুলির গতিপথে। অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি হয় না। 
নদীর প্রবাহপথেনির্মিত খাত
নদীগুলি অনেকটা পথ পার্বত্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে নদীর খাত খুব গভীর (সংকীর্ণ ‘v’ বা ‘I’ আকৃতির)। পার্বত্য উপত্যকার দৈর্ঘ্য কম এবং পার্বত্য অঞ্চলে নদীর খাত বিশেষ গভীর নয়।
পলি সঞ্চয়।পার্বত্য অঞ্চলে নদীগুলি খরস্রোতা। এজন্য ভূমিক্ষয় বেশি হয় এবং ক্ষয়িত পদার্থগুলি সমভূমিতে সয় করে।প্রাচীন কেলাসিত শিলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে নদীগুলির ক্ষয় করার ক্ষমতা যথেষ্ট কম। তাই নদীগুলি দ্বারা সমভূমিতে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম।
নাব্যতানদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে এবং সমভূমি অঞ্চলে নদীর গতি কম, এজন্য নৌপরিবহণের উপযােগী।নদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে না এবং মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার জন্য খরস্রোতা। তাই নদীগুলি নৌপরিবহণের উপযােগী নয়।
জলবিদ্যুৎ উৎপাদনপার্বত্য অঞ্চল ছাড়া সমভূমিতে নদীর স্রোত কম বলে নদীগুলির সামান্য অংশই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূল।অধিকাংশ পথ মালভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিতবলে নদীগুলির বেশিরভাগ অংশ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযােগী।
নদীর দৈর্ঘ্যনদীগুলি দৈর্ঘ্যে খুব বড়াে।নদীগুলি দৈর্ঘ্যে অপেক্ষাকৃত ছােটো। 
জলসেচের সুবিধানদীগুলিতে সারাবছর জল থাকে বলে জলসেচের সুবিধা হয়। বাঁধ দিয়ে জল ধরে না। রাখলে সারাবছর জলসেচ করা যায় না।
উপনদী-শাখানদীর সংখ্যা ও মাটির গভীরতা দীর্ঘ নদীগুলির উপনদী ও শাখানদীর সংখ্যা অনেক বেশি। নদীগুলির উপত্যকায় মৃত্তিকার গভীরতা খুব বেশি। দীর্ঘ নদীগুলির উপনদী ও শাখানদীর সংখ্যা, কম। নদীগুলির উপত্যকায় মৃত্তিকা অগভীর। 
বদ্বীপ সৃষ্টিপ্রতিটি নদী মােহনায় সুবিশাল বদ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে।নদীগুলির মােহনায় গঠিত বদ্বীপের আয়তন ক্ষুদ্র। নর্মদা ও তাপ্তীর মােহানায় বদ্বীপ সৃষ্টি হয়নি।

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!