রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা : কবির ইচ্ছা যে-কবি আজ থেকে প্রায় দেড়শাে বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং প্রায় সত্তর বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথের কবিতা ঘরে ঘরে : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজ সর্বত্র ব্যপ্ত। তিনি আমাদের কাছে কবির কবি’ এবং ‘গানের রাজা। বহু যুগের বহু সাধনায় তাঁর জন্ম হয়।

রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা : পৃথিবীতে এপর্যন্ত বহু কবি ও মনীষীর জন্ম হয়েছে। শেকসপিয়র, গেটে, হােমার, ভার্জিল, মিলটন প্রমুখ বহু কবি ও মনীষীর নাম আমরা উল্লেখ করতে পারি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মধ্য দিয়ে মনীষার যে বিপুল ব্যাপ্তি, তা আর কারও ভিতর দেখা যায় না—রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একাধারে কবি, নাট্যকার, অজস্র গানের স্রষ্টা, প্রাবন্ধিক এবং বিশ্বসেরা চিত্রকর। তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন আধুনিক শিক্ষাভাবনার পথিকৃৎ। এই শিক্ষা কীভাবে দিতে হবে, তা তিনি নিজের উদ্যোগে ‘শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে তাঁর জন্ম। পরাধীন ভারতে তাঁর প্রতিভার বিকাশ। কিন্তু স্বাধীনতা ছিল তাঁর রক্তে রক্তে। তিনি  ভারতবর্ষ, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা তিনটি রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। ভারত-বাংলাদেশকে আজ ঐক্যের বাঁধনে যিনি বেঁধে রেখেছেন, তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ আজও অনেক প্রাসঙ্গিক।

রবীন্দ্রজীবন : রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১২৬৮ খ্রিস্টাব্দের ২৫ বৈশাখ। জন্মেছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকোর প্রখ্যাত ঠাকুর পরিবারে। বাবার নাম মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঠাকুর পরিবার তখন নবজাগরণের আলােকের দিশারি। যদিও রবীন্দ্রনাথ শৈশবে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমিতে কিছুদিন পাঠ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর প্রকৃত শিক্ষা হয়েছিল নিজেদের পরিবারের পাঠশালায়। সতেরাে বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথকে ইংল্যান্ডে পাঠানাে হয় ব্যারিস্টারি পড়তে। কিন্তু ব্যারিস্টারি পড়া শেষপর্যন্ত তাঁর হয়নি। ১৮৮৪-তে বাবার নির্দেশে কবি তাঁদের জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব পান। এইসময় কবির সঙ্গে পদ্মলালিত বঙ্গদেশের পরিচয় হয়, যা কবির কাছে ছিল মহার্ঘ অভিজ্ঞতা। দেশ ও মানুষকে তিনি খুব কাছ থেকে চিনতে থাকেন এবং তাঁর যথার্থ ১ কবিপ্রতিভার উন্মেষ হয়।

সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ : বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তা চিরস্মরণীয় ও শাশ্বত। তাঁর উপন্যাস ‘নৌকাডুবি,‘চোখের বালি’, ‘গােরা’, ‘রাজর্ষি’, ‘ঘরে বাইরে’ আজও পাঠকের কাছে সমাদৃত। তাঁর নাটক ‘বিসর্জন’, ‘রাজা ও রাণী’, ‘রক্তকরবী’, ‘ডাকঘর’, ‘অচলায়তন’ ইত্যাদির সঙ্গে নৃত্যনাট্য শ্যামা’, ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রভৃতিও যথার্থ স্মরণীয়। বাংলা কবিতায় তাঁর দান অপরিসীম। বাংলা কবিতাকে তিনি উনিশ ২ শতকের ভাববন্ধন এবং ভাষাবন্ধন থেকে মুক্ত করে আধুনিকতার বিশ্বসভায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন। শ্রাবণী’, ‘সােনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’, কল্পনা থেকে শুরু করে তিনি একের-পর-এক লিখে গেছেন, বলাকা’, ‘পূরবী, শ্যামলী’, ‘পুনশ্চ’, ‘শেষলেখা’ইত্যাদি এবং গীতাঞ্জলি’, ‘গীতালি’, ‘গীতিমাল্য থেকে সংকলিত কয়েকটি কবিতা।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি : ‘গীতাঞ্জলি’ ইংরেজিতে অনুবাদ করে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ‘নােবেল প্রাইজ’ পান। তিনি ইংরেজদের কাছ থেকে ‘নাইট’ উপাধিও পান।

উপসংহার : রবীন্দ্রনাথ যে কেবল নিছক একজন কবি ছিলেন তা নয়। তিনি ছিলেন মনীষী, ছিলেন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা। তাই তাঁর মৃত্যুর সত্তর বছর পরেও তিনি প্রাসঙ্গিক এবং তাঁর দেড়শাে বছরের জন্মবর্ষে তিনি আমাদের কাছে এখনও পথপ্রদর্শক।

আরো পড়ুন

আধুনিক ভারতবর্ষে শিক্ষার জনক বিদ্যাসাগর – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

জনজীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

বাঙালির উৎসব/বাংলার উৎসব – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

বাংলার সংস্কৃতি – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

তোমার প্রিয় উপন্যাস – বাংলা প্রবন্ধ রচনা

Read More »

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!