ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারণার সমালােচনাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবে? 

ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারণার সমালােচনাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবে? 4 Marks/Class 10

উত্তর:

ভূমিকা : উনিশ শতকে মেকলে মিনিটের মাধ্যমে ভারতে যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন হয়েছিল তার সঙ্গে বাস্তবজীবনের সম্পর্ক না থাকায় ভারতীয়রা এই শিক্ষা ব্যবস্থার সমালােচনা করেছিল। 

শিক্ষাধারণার সমালােচনা : ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারণার সীমাবদ্ধতা থেকেই ভারতীয়রা উনিশ শতকে এক বিকল্প শিক্ষানীতির কথা চিন্তাভাবনা শুরু করে— 

১) মাতৃভাষার গুরুত্ব : ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে উদয়চন্দ্র আঢ্য নামক ডিরােজিওপন্থী একজন সাংবাদিক মাতৃভাষা বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যমরূপে দাবি করেন এবং এর দু-এক বছর পর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত হয় তত্ত্ববােধিনী পাঠশালা। পরবর্তীকালে গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী মাতৃভাষার মাধ্যমেই শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেন।

২) কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষা : প্রমথনাথ বসু কারিগরি ও বিজ্ঞানশিক্ষার ওপরে গুরুত্ব আরােপ করেন এবং এই একই উদ্দেশ্যে যােগেন্দ্রচন্দ্র ঘােষ একটি অর্থভাণ্ডার গড়ে তােলেন।

৩) সতীশচন্দ্র মুখােপাধ্যয় : জাতীয়তাবাদী নেতা তথা ‘ডন’ পত্রিকার (১৮৯৭ খ্রি.) প্রতিষ্ঠাতা সতীশচন্দ্র মুখােপাধ্যায় ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারার সমালােচনা করে দেশের প্রয়ােজনীয়তার সঙ্গে সংগতি রেখে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা প্রবর্তনের কথা বলেন। 

৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রবন্ধের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শিক্ষাকে সমালােচনা করে স্কুলগুলিকে ‘ছেলেদের মানুষ করার যন্ত্র’ নামে অভিহিত করার পাশাপাশি তিনি ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থায় ভারতীয় জীবনাদর্শ ও রীতিনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি শান্তিনিকেতনে ‘ব্ৰত্মচর্যাশ্রম’ নামক একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প শিক্ষানীতির প্রবর্তন করেন।

উপসংহার : এভাবে ঔপনিবেশিক শিক্ষাধারা সমালােচনার মাধ্যমে ভারতে জাতীয় শিক্ষা প্রবর্তনের দাবি জোরদার হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত বঙ্গভঙ্গ বিরােধী আন্দোলন কালে গড়ে ওঠে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ।

Note: এই আর্টিকেলের ব্যাপারে তোমার মতামত জানাতে নীচে দেওয়া কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করতে পারো। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!